মৃত্যুদন্ডাদেশ
প্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর দন্ড
স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের
মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি
আর্ন্তজাতিক মান বজায় রেখে মীর কাসেম আলীর
পুনর্বিচারের আহ্বানও জানানো হয়েছে। মীর
কাশেম আলীর রিভিউ শুনানির আগে, তার ছেলে ও
ডিফেন্স টিমের সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন
কাসেমকে আটকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ
করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা।
বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, বিচার বিভাগের
স্বাধীনতা, নির্যাতন, বিনা বিচারে আটক ও
জোরপূর্বক অপরহণ বিষয়ক জাতিসঙ্ঘের
বিশেষজ্ঞরা গত মঙ্গলবার জেনেভা থেকে দেয়া
এক বিবৃতিতে এ আহব্বান জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়,
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে
মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বাংলাদেশের
আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ২০১৪
সালে মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুদন্ড দেন। আইসিটির
দেয়া রায় গত ৮ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আপিল
বিভাগ বহাল রাখেন। এতে বলা হয়, মৃত্যুদন্ড
প্রয়োগে সুষ্ঠু বিচার ও যথাযথ প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত
আর্ন্তজাতিক মান বজায় না রাখার অভিযোগ
রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আর্ন্তজাতিক আইন
অনুযায়ী, যা অনুসরণ করতে বাংলাদেশের
বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সর্বোচ্চ সাজা দেয়ার
ক্ষেত্রে অবশ্যই ন্যায্য বিচার ও যথাযথ প্রক্রিয়া
অনুসরণ করতে হবে। অন্যথায় সাজা কার্যকর
বিবেচনা করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাজা
হিসেবে মৃত্যুদন্ড অমানবিক। তাই তার প্রক্রিয়া
হতে হবে স্বচ্ছ। মীর কাসেম আলীর ছেলে ও তার
ডিফেন্স টিমের আইনজীবী মীর আহমেদ বিন
কাসেমকে গত ৯ আগস্ট তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে
যাওয়ার ব্যাপারেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে
মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ দল।
তাদের মতে, মীর কাসেম আলীর রিভিউ শুনানির দুই
সপ্তাহ আগে কী সন্দেহ বা অভিযোগে, কাদের
দ্বারা এবং কোথায় তার ছেলেকে আটকে রাখা
হয়েছে, এ ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে
না। মীর আহমেদ বিন কাশেমের অবস্থান সম্পর্কে
অবিলম্বে জানানোর জন্য জাতিসঙ্ঘের
বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের প্রতি
আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিদাতা বিশেষজ্ঞরা
হলেন, মিস এজেন্স চেল্লেমার্ড, মিস. মোনিকা
পিন্টু, মি. জোয়ান ই. মিনডেজ, মি. সিটোনডিজেই
রোল্যান্ড আডিজুভি।

No comments:
Post a Comment